সাংবাদিক খুন মামলায় মুক্তি গুরমিত রাম রহিমের! তবু জেলেই থাকতে হবে কেন?
সাংবাদিক হত্যা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। ২০০২ সালের এক সাংবাদিক খুনের ঘটনায় সাত বছর আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সিবিআই আদালত এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এবার সেই মামলায় তাঁকে অব্যাহতি দিল উচ্চ আদালত। যদিও এই রায়ের পরও জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। কারণ দুটি ধর্ষণ মামলায় ইতিমধ্যেই কুড়ি বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু।রাম রহিমের আইনজীবী জিতেন্দর খুরানা জানান, উচ্চ আদালত সাংবাদিক রামচন্দর ছত্রপতি হত্যা মামলায় তাঁর মক্কেলকে অব্যাহতি দিয়েছে। ২০১৯ সালে সিবিআই আদালত এই মামলায় রাম রহিম, নির্মল সিং এবং কৃষ্ণান লালকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল।রামচন্দর ছত্রপতি পুরা সাচ নামে একটি সংবাদপত্র চালাতেন। ২০০২ সালের অক্টোবরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর কিছুদিন আগে তাঁর পত্রিকায় একটি বেনামী চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল। সেই চিঠিতে ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দপ্তরে নারী অনুসারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।তবে এই মামলায় অব্যাহতি পেলেও জেল থেকে এখনই বেরোতে পারছেন না রাম রহিম। ২০১৭ সালে দুই নারী অনুসারীকে ধর্ষণের মামলায় তাঁকে কুড়ি বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেই সাজা ভোগ করার কারণেই বর্তমানে রোহতকের সুনারিয়া জেলে রয়েছেন ৫৭ বছরের এই ধর্মগুরু।যদিও সরকারি নথিতে তিনি জেলবন্দি থাকলেও বিভিন্ন সময়ে প্যারোলে মুক্তি পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত জানুয়ারিতেই তিনি চল্লিশ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। হরিয়ানার বিজেপি সরকার তাঁর এই ছুটি মঞ্জুর করেছিল।রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে বিশ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসে আবার একুশ দিনের জন্য প্যারোল দেওয়া হয়। একই বছরের আগস্ট মাসে আবার চল্লিশ দিনের জন্য মুক্তি পান তিনি।এখানেই শেষ নয়। হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও একাধিকবার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হিসাব বলছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট তিনশো ছাব্বিশ দিন প্যারোলে জেলের বাইরে ছিলেন রাম রহিম।

